বিয়ের দিন থেকেই মেয়েটির জীবনে দুর্দশা শুরু হয়। মেয়েটির স্বামী ছিলো একজন লোভী মানুষ। সে প্রায়ই যৌতুকের জন্য মেয়েটিকে মৌখিক এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। মেয়েটির বাবা খুবই গরীব। তার পক্ষে যৌতুক দেয়া সম্ভব না। এদিকে স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বিয়ের কয়েক মাস পরই মেয়েটি তার স্বামীকে ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে আসে।মেয়েটি এখন শপথ করেছে যে তার মতো যারা অসহায় মহিলা আছে তাদের জন্য সে কিছু করবে। সে চায় আত্মনির্ভরশীল হতে। সে চায় অসহায় মহিলাদের মুখে হাসি ফুটাতে। সে চায় প্রমাণ করতে নারীরাও পিছিয়ে নেই।
তার এখন একটাই স্বপ্ন সমাজে তার মতো হতভাগা মহিলাদের মুখে হাসি ফুটানো।
এ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার জন্য সে অসহায় মহিলাদেরকে খুঁজে বের করে একটা সংগঠন চালু করে। তার সংগঠনে সদস্য সংখ্যা 50 জন। এদের সবাই তার মতো দুর্ভগা। মেয়েটি নিজেই তার সদস্যদেরকে প্রশিক্ষণ দেয় এবং বিভিন্ন কাজ দেয়। যাতে সবাই আত্মনির্ভরশীল হতে পারে।কিছুদিনের মধ্যেই তাদের সংগঠনে সদস্য সংখ্যা বাড়তে থাকে। মেয়েটিই সংগঠনটি পরিচালনা করে। এ সংগঠনের প্রধান কাজ হলো বিভিন্ন পোশাক তৈরী করা। সেগুলোর উপর রং করা, ডিজাইন করা ইত্যাদি। এখানে মেয়েদের জন্য থ্রী পিজ এবং ছেলেদের জন্য Fatuas তৈরী করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের শাড়ী তৈরী করা হয়। মেয়েটি নিজেই শাড়ীর উপর রং বেরংয়ের ডিজাইন করে। এ সংগঠনের পণ্যগুলো নিজস্ব দোকানে বিক্রি করা হয় এছাড়াও বাহিরেও সরবরাহ করা হয়। কয়েক মাসের মধ্যেই এ সংগঠনের সদস্যরা আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠে। এখন সবাই মন খুলে হাসতে পারে। সবাই এখন সুখেই জীবনযাপন করতেছে। এ সব কিছুই সম্ভব হয়েছে একটি সাহসী মেয়ের সাহসী উদ্যেগের কারনে।
মেয়েটি এখন তার অতীতের সব কষ্ট ভুলে গিয়েছে। তার জীবনে যা ঘটেছিলো তার জন্য এখন তার কোনো কষ্ট নেই, শোক নেই, অনুশোচনা নেই এবং কারো প্রতি কোনো অভিযোগও নেই। তার এখন একটাই স্বপ্ন সে অসহায় মহিলাদের মুখে হাসি ফুটাবে । এ লক্ষ্যে সে সমাজের অসহায় মহিলাদের খুঁজে বের করে তার সংগঠনে নিয়ে আসে। এই সাহসী মেয়েটির ইচ্ছা সে একজন বিখ্যাত ডিজাইনার হবে।
ইচ্ছা শক্তি অদম্য হলে কোনো কিছুই কাউকে দমিয়ে রাখতে পারে না। যার জ্বলন্ত উদাহরণ হলো এই সাহসী মেয়েটি। যে শত বাঁধা পেরিয়ে সর্বশেষ সফলতার শীর্ষে পৌঁছেছে। সফলতা অর্জন করতে হলে, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে অবশ্যই সাহসী উদ্যোগ নিতে হবে।

Comments
Post a Comment