হিংসা হলো কারো সফলতা দেখে অন্তরে জ্বালা অনুভব করা এবং কিভাবে তার অকল্যাণ করা যায় সে চিন্তা করা।হিংসা অত্যন্ত ঘৃণিত একটি কাজ।ইসলাম হিংসাকে স্বীকৃতি দেয় না। অন্যদিকে ঈর্ষা হলো কারো সফলতা বা কল্যান দেখে উৎসাহিত হয়ে নিজেকে তার মতো বা তার চেয়ে বেশি সফল বা উন্নত করার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা করে যাওয়া।ঈর্ষা খুবই ভালো একটি কাজ।ইসলামে ঈর্ষা করা জায়েজ। অতএব হিংসা বর্জন করে ঈর্ষা করা শিখতে হবে।
হিংসা খুবই খারাপ একটা জিনিস।হিংসুক কখনোই সফলতা অর্জন করতে পারেনা। কেননা সে নিজের ভালোর কথা না ভেবে সারাক্ষণ অন্যের খারাপের কথা চিন্তা করে।হিংসুককে সবাই ঘৃণা করে।সমাজে হিংসুকের কোনো জায়গা নেই। সবাই হিংসুককে খারাপ চোখে দেখে।আমাদের রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সঃ) আমাদেরকে হিংসা করতে নিষেধ করে গেছেন। তিনি বলেছেন "তোমরা পরস্পর হিংসা বিদ্বেষ করো না"।আর তাছাড়া হিংসা হলো অধঃপতনের মূল।রাসূূল (সঃ) আরো বলেছেন "তোমরা হিংসা করা থেকে নিজেদেরকে বিরত রেখো কেননা হিংসা নেক আমলকে পুড়িয়ে দেয় যেমনটা আগুন শুকনা কাঠকে পুড়িয়ে দেয়"। এজন্য কারো সফলতা বা কল্যান দেখে হিংসা করা উচিত নয়।হিংসুককে আল্লাহ তায়ালাও পছন্দ করেন না। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সফলতা বা কল্যান দান করেন।তাই কারো সফলতা দেখে আমাদের হিংসা করা উচিত নয়। বরং তার মতো হওয়ার চেষ্টা করা উচিত।কেননা কারো অনিষ্ট করে কখনোই সফলতা অর্জন করা যায় না।হিংসা অবশ্যই খুবই নিন্দনীয় কাজ।হিংসার কারনে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। কাজেই হিংসা বর্জন করতে হবে।
হিংসার বিপরীত হলো ঈর্ষা। ঈর্ষা করাটা নিজের জন্য, সমাজের জন্য এবং সবার জন্যই কল্যানকর।ঈর্ষা করলে কখনোই কারো ক্ষতি হয় না। এজন্য অবশ্যই হিংসা বর্জন করে ঈর্ষা করাটা শিখতে হবে। ঈর্ষা হলো কারো সফলতা বা ভালো কাজ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তার মতো হওয়ার চেষ্টা করা।ধরুন একলোক অনেক বড় একটা মাদ্রাসা বা বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠা করলো। এটা দেখে আপনি মনে মনে ভাবলেন ইস! আমি যদি এমন একটা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে পারতাম।আর এই মনোভাব নিয়ে চেষ্টা করে যাওয়াটাই ঈর্ষা। তবে মনে রাখতে হবে ঈর্ষাটা সবসময় ভালো জিনিস নিয়েই করতে হবে। কেউ একটা সিনেমা হল নির্মাণ করলো আর তা দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে আপনিও সিনেমা হল নির্মাণ করলেন এটা অবশ্যই খারাপ কাজ।
ইসলাম ধর্মে হিংসা নয় বরং ঈর্ষা করতে বলা হয়েছে। আমাদের সবার মাঝেই ঈর্ষা জিনিসটা থাকতে হবে। কেউ একজন BCS CADRE হলো এটা দেখে যদি আপনার মনে ঈর্ষা জাগ্রত হয় এবং আপনি নিরলস চেষ্টা করে যান তাহলে অবশ্যই একদিন না একদিন আপনি সফল হতে পারবেন। একটা ছেলে ক্লাশে বরাবরই প্রথম হয় তাকে দেখে যদি ক্লাশের সবচেয়ে খারাপ ছাত্রটাও ঈর্ষান্বিত হয়ে তার মতো হতে চায়, তার মতো পড়াশোনা করে তাহলে অবশ্যই সে একদিন না একদিন নিজেকে ভালো ছাত্রে পরিণত করতে সক্ষম হবে। এজন্য আমাদেরকে হিংসা পরিহার করে অবশ্যই ঈর্ষা করাটা শিখতে হবে।
হিংসুককে কেউ পছন্দ করে না। সবাই হিংসুককে ঘৃণা করে।হিংসুক সবসময়ই চায় অন্যের ক্ষতি করে নিজে উন্নতি লাভ করতে। হিংসুকের দ্বারা কখনোই মানুষের কল্যান আশা করা যায় না। অন্য দিকে ঈর্ষাকারীকে সবাই ভালোবাসে। সে কখনোই নিজেকে উন্নত করার জন্য অন্যের ক্ষতি চায় না। সে নিজের প্রচেষ্টা দ্বারা সফলতা অর্জন করতে চায়। যেহেতু হিংসা নিন্দিত এবং ঈর্ষা নন্দিত। তাই আমাদের উচিত হিংসা বর্জন করে ঈর্ষা করতে শিখা।
Comments
Post a Comment